মানুষ ধোকা দেয় কেনো | Why Do People Cheat.


মানুষ ধোঁকা দেয় কেনো

মানুষ ধোকা দেয় কেন,ছ্যাকা খায় কেন
Add caption

সবাই বলে আমরা যার উপর বেশি ভরসা করি বেশি বিশ্বাস করি সে আমাদের কেন ধোকা দেয়।
যাদের উপর আমাদের সব থেকে বেশি আসা থাকে,
যে সে আমাদের সাথে থাকবে,কেন সেই আমাদের ধোকা দিয়ে যায়।
সবার আগে আমাদের একটি কথা বুঝতে হবে।
বিশ্বাস ও ধোকা এর এর আসল অর্থ কি।
বাস্তবে সব সময় ধোকা আপনার আসা পেয়ে থাকে।
লোক বলে আমি তার জন্য কত কি ভেবেছিলাম,
আমি থাকে কত বিশ্বাস করতাম,কিন্তু পরিবর্তে আমি তার কাছ থেকে ধোকা পেয়ছি।
আমি কি ভেবেছিলাম আর সে কি রকম এখন বুঝতে পারলাম।

সবার প্রথমে ধোকার প্রধান কারন হলো আপনার আসা, আপনি কোন কিছু না বুঝে না জেনে যে কাউকে বিশ্বাস করেন।কিন্তু সেটা সব সময় সত্যি হয় না।
যার যখন আমরা বাস্তবে সামনে আসি,তখন আমাদের এটি মনে হয় যে আমরা ধোকা পেয়েছি।কিন্তু যদি আমরা সময় থাকতে নিজের বুদ্ধি দিয়ে সামনের জনকে বুঝতাম,
দেখতাম,তাহলে প্রথমে আমরা তার সম্পর্কে জেনে যেতাম।আমরা ধোকা এই কারনে পাই,কারন আমরা আমাদের মনের ভাবনাকে অন্যের আসায় জাগিয়ে নেই।
কিন্তু যখন ঐ ব্যক্তির আসল চেহারা আমাদের সামনে আছে,তখন আমরা বলি ঐ ব্যক্তি আমাকে ধোকা দিয়েছে।অনেক সময় লোক সামনের জনকে এত বেশি বিশ্বাস করে,আর থাকেই জিজ্ঞাস করে, তুমি আমাকে কোন ধোকা দেবে না তো।এটা তো অনেকটা এমন হলো যে আপনি কোন কাপরের দোকানে গিয়ে বলছেন,
যে এই কাপরটি আমাকে কি ভালো লাগবে?
তাহলে দোকানদার তো বলবেই যে হে আপনাকে অনেক ভালো লাগবে এটায়।সে কখনই বলবে না আপনাকে খারাপ লাগছে।
একিভাবে যে কাউকে যদি আপনি এটি জিজ্ঞাসা করেন,
যে তুমি আমায় ধোকা দেবে না তো, তাহলে কেউ কি এটি বলবে,যে হে আমি তোমাকে ধোকা দেবো।
কেউ কেন বলবে এটা। তাই ধোকা সেই সমস্ত আসা গুলো পেয়ে থাকে যা আমরা অন্যের উপর করে থাকি।
আমরাই সুযোগ করে দেই অন্যদের ধোকা দেওয়ার।
আমরা অন্যের উপর এত বেশি নির্ভর হয়ে পরি এত বেশি বিশ্বাস করে নেই।যে তার প্রতিটি মিথ্যা কথাকে ও আমরা সত্যি মনে করি।
আমরা এতটুকু বুঝতে পারি না যে আজকের দিনে সত্যি বলা লোক খুব কম পাওয়া যায়।
আর এর কারন হলো সত্যি কথা শুনার লোক আজ অনেক কম।সামনের জনের খারাপ না লাগে তাই মিথ্যা কথা বলে।তাই আমাদের এই কথাগুলোকে বুঝতে হবে।
একটু বাস্তব ভাবে চিন্তা করতে হবে।
আর আমাদের বুদ্ধি ও ভিবেক দ্বারা কাজ করে হবে।
প্রতিটি বলা ও শুনা কথাকে সত্যি মনে করবেন না।
মনের মধ্যে কোন কাল্পনিক আসাকে নিয়ে আসবেন না।
এই কারনে আমাদের মন ভেঙ্গে যায়।আর এই কারনে আমরা ধোকা পেয়ে থাকি।কারন আমরা যে কারোর কথাকে সত্যি মনে করি।আমরা ভাবি সামনের জন যেহুতো বলছে, সে আমাদের সাথে থাকবে,সে আমাকে ভালবাসবে,তার জিবনে আমার অনেক গুরুত্ব আছে,তো বন্ধু আজকাল সবাই একে অপেরকে এটি বলে থাকে।
কোন দুনিয়ায় আছেন আপনি?
কেউ কাউকে বলে যে আমি তোমায় ঘৃনা করি,আমি তোমাকে ধোকা দেবো,কেউ বলবে না,সবাই এটাই বলবে,যে আমি তোমাকে অনেক ভালবাসবো।
সারা জিবন তোমার সাথে থাকবো,আমার প্রেম সত্য। কে বলবে যে আমার প্রেম মিথ্যা।
কিন্তু আমরা এই ভুলটি করি।যে তাদের এই মিথ্যা কথাগুলোকে সত্যি মনে করে নেই।
একবার একটি রাজার রাজ্যে এক সুন্দর গায়ক ছিলো,
তার গলার আওয়াজ এত সুন্দর ছিলো,যা সবার মন ছুয়ে যেতো।তার নাম ছিলো গনা।কিন্তু সে রাজার এক সেবিকা সুজাতাকে ভালবাসতো।আর সে তার ভালবাসার জন্যই কেবল মাত্র গান গাইতো।
কিন্তু সারা রাজ্যে তার গানের অনেক প্রশংসা হতো।
একবার রাজার দরবারে কিছু অতিথি আসার কথা ছিলো। রাজা গনাকে ডেকে বলে কিছু বিশেষ অতিথি আমার দরবারে আসবে।তুমি তাদের জন্য গান করবে।
তখন গনা বলে মহারাজ আমাকে ক্ষমা করবেন।
আমি সুজাতাকে ভালবাসি, আর আমি কেবল মাত্র তার জন্যই গান করি।আমি অন্য কারো জন্য গান গাইতে পারবো না।আর এটি বলেই সে চলে যায়।
রাজা অনেক রেগে যায়,আর বলে এর এত বড় সাহস,সে আমাকে মানা করে।তখন মন্ত্রী বলে,মহারাজ আপনি চিন্তা করবেন না,সে যে সুজাতাকে ভালবাসে সে আপনারই সেবিকা, যে সে বলে তাইলে গনা অবশ্যই গান গাইবে।
তখন রাজা বলে তুমি যাও আর সুজাতাকে বল সে যেনো গনাকে গান গাইতে বলে।
পরিবর্তে সে যে পুরুস্কার চাইবে আমি থাকে দেবো।
মন্ত্রী সুজাতাকে বলে আমি সুজাতা গনাকে বলে তুমি কি আমার জন্য গান গাইবে।তখন গনা বলে হে আমি তোমার জন্য সব করা কিছু করতে পারবো।
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।সুজাতা বলে আমি ও তোমাকে ভালবাসি।
কাল রাজার দরবারে অবশ্যই গান গাইবে।
সে বলে আমি তোমার জন্য অবশ্যই গাইবো।এর পর যখন অতিথি আসে।তখন গনা সুজাতার কথায় গান করে।
ঐ অতিথি গুলি অনেক খুশি হয়,আর যখন তারা সেখান থেকে চলে যায়।তখন রাজা গনাকে ডাক দিয়ে  বলে তুমি আমার কথা মানো নাই,সামান্য একজন সেবিকার কথা মেনে নিলে,আমার তো ইচ্ছা করছে তোমাকে কঠিন শাস্তি দেই।কিন্তু যেহুতো তোমার মধ্যে এত গুন রয়েছে,তাই আমি রাজ্য থেকে তোমাকে বের করে দিলাম।
তুমি আজি আমার রাজ্য থেকে চলে যাবে।গনা বললো ঠিক আছে মহারাজ তাই হবে।গনা এর পর সুজাতার কাছে যায় আর বলে রাজা আমাকে রাজ্য ছেরে চলে যেতে বলেছে,তুমিও তোমার জিনিষ পত্র গুছিয়ে নাও।
আমরা একসাথে দূরে কোথাও চলে যাবো।
তখন সুজাতা বলে,আমি তো কোথাও যাবো না,কারন আমার উপর রাজা অনেক খুশি।
আমি আমার কাজ ছেরে কোথাও যাবো না।
তখন গনা বলে আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।
তোমার কথাতে আমি গান গেয়েছি।আর সেই কারনে আমি এই শাস্তি পেয়েছি।তখন সুজাতা বলে তুমি তোমার কাজ করেছো,আর আমি আমার কাজ করেছি।
আমি কোথাও যাবো না।সুজাতার এই কথা শুনে গনার মন ভেঙ্গে যায়।সে ভাবে যাকে আমি আমার জিবনের থেকে ও  বেশি ভালবাসতাম,আজ সেই বদলে গেলো।
আজ সেই আমাকে ধোকা দিয়ে দিলো।
আজ সেই আমার হাত ছেরে দিলো।
বাস্তবে ধোকা আমাদের আসা দিয়ে থাকে যা আমরা অন্যের উপর করে থাকি।যে ও আমার সাথে থাকবে,
আমাকে ভালবাসবে।
কে সাথে থাকবে আপনার,কবে আপনি বুঝবেন এই কথাকে।যে মানুষের মন প্রতি মিনিটে পরিবর্তন হয়ে থাকে।
মানুষের মন পরিবর্তন হয়,মানুষের ভাবনা পরিবর্তন হয়।
মানুষের ভালবাসা ও পরিবর্তন হয়ে যায়।
ভালবাসা যে কখন ক্ষৃনায় পরিবর্তন হয়,কেউ বুঝতেই পারে না।আমরা এই কথাগুলোকে বুঝতে পারি না।
আর আমরা এই Temporary Emotion কে ভাস্তব ভেবে বসে থাকি।আর এই কারনেই আমাদের মন ভেঙ্গে যায়।
যে ব্যক্তি আমাদের বিস্বাসের যোগ্যই নয়।তার উপর যখন আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি।
তখন ধোকা তো পাবই।এই পৃথিবীতে যদি আপনি শান্তিতে থাকতে চান তাহলে আপনি আপনার চোখ কান খুলে বাচুন।প্রতিটি কথাকে বুঝে তারপর বিশ্বাস করুন।

আমরা বিস্বাস এর আসল শব্দ বুঝি না তাই হয়তো আমরা ধোকা পেয়ে থাকি।
বিস্বাসের অর্থ হলো একটি positive চিন্তা,
নিজের জিবনের জন্য অন্যের উপর কখনো বিস্বাসকে রাখা যাবে না।যেদিন আমরা বিস্বাসকে অন্যের উপর থেকে সরিয়ে নিজের কাধেঁ নিয়ে নেবো।নিজের জিবনে প্রতিটি কাছে বিস্বাসকে যুক্ত করবো।সে দিন থেকে কেউ আমাদের ধোকা দিতে পারবে না।
আমরা সমস্ত কিছুকে জয় করতে পারবো।
যদি আমরা এই ছোট্ট ছোট্ট কথাগুলোকে বুঝতে পারি।
তাহলে কেই কখনো আমাদের ধোকা দিতেই পারবে না।
তো বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্ত কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন,ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।
আল্লাহ হাফিজ,
ভালো থাকুন,
সুস্থ থাকুন