ভালবাসার নিদর্শন তাজমহল ও সম্রাট শাহ জাহানের জিবনী


ভালবাসার নিদর্শন তাজমহল ও সম্রাট শাহ জাহানের জিবনী 



শাহ জাহান ভারতবর্ষের পঞ্চম মোগল সম্রাট।তার পূর্ণ নাম শাহবুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ জাহান।শৈশবে তার পূর্ন নাম ছিলো খুররম।তিনি ছিলেন বাবর,হুমায়ূন, আকবর ও জাহাঙ্গিরের পরে পঞ্চম মোগল সম্রাট।
যিনি ১৬২৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশে শাসন করেছেন।তাকে মোগল সাম্রাজে সর্বশেষ্ট শাসক হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
তার শাসনামলকে স্বর্নযুগ বলা হয় এবং তার সময়ে ভারতে সভ্যতা বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।
সম্রাট শাহ জাহান ও মমতাজের প্রেম কাহিনী বিশ্বে সারা জাগানো প্রেম কাহিনীর মধ্যে অন্যতম।
সম্রাট শাহ জাহানের শ্বাশত ভালবাসার অনন্য নিদর্শন তাজমহল। 

এর সৌন্দর্য মানুষকে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে আসছে এর ভিত্তিমুলে রয়েছে প্রগার ভালবাসা
তাজমলের নির্মান কাজ শুরু হয় ১৬৩২ সালে,মমতাজের মৃত্যুর একবছর পর।বিশ হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রচেষ্টায় ১৬৪৮ সালে, মমতাজের মৃত্যুর ১৭ বছর পর গম্ভুজ গুলোর নির্মান কাজ শেষ হয়।
যদিও পুরো কাজ শেষ হয় ১৬৫৩ সালে।শুধু মানুষ নয় এমহান কীর্তির বাগিদার ১০০০ হাতী,যারা নির্মান কাজের জন্য মার্বেল পাতর পরিবহনে নিয়োজিত ছিলো।
পুরো তাজমহল ১৮০ ফুট উচু যার প্রধান গূম্ভুজটি ২১৩ ফুট উচু এবং ৬০ ফুট চওরা এবং এর চারপাশে ৪ টি মিনার রয়েছে যার প্রতিটির উচ্চতা ১৬২ into ৫ ফুট পুরো কম্পেলেসটির আকার ১৯২ into ১০০২ ফুট।
শুধু তাজমহলটি ১86 into 186 ফুট মার্বেল পাথরের উপর নির্মিত।এর প্রধান প্রবেশদ্বার ১৫১ গুনন ১১৭ ফুট চওরা এবং ১০০ ফুট উচু।
তাজমহল নির্মানের জন্য পাঞ্জাব থেকে সচ্চ মার্বেল পাথর চিন থেকে সবুজ পাথর তিব্বত থেকে সচ্চ ও নীল পাথর এবং শ্রিলংকা থেকে নীল মনি।
তাছাড়া  ভারত পাকিস্তান ছারা ও বিশ্বের ভিবিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৮ রকমের মুল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি করা হয় অনন্য স্তাপত্য।
দাদা আকবরের মত তিনি ও তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করেছেন।

মানুষের তৈরি ৭ টি বিষ্ময়কর জিনিষের মধ্যে তাজমহল একটি।আর এই তাজমহল ভারতের উত্তর প্রদেশের আগরায় যমুনা নদীর তীরে উপস্থিত। সম্রাট শাহ জাহান ১৫৯২ খ্রিষ্টাব্দে ৫ ই জানুয়ারী লাহুরে জণ্মগ্রহন করেন।
তিনি চতুর্থ মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও তার হিন্ধু রাজপুত স্ত্রী তাজমেরি বিলকিস মাকানীর সন্তান ছিলেন।
বাল্যকালে তিনি তার দাদা আকবরের প্রিয় পাত্র ছিলেন।
সাহসীকথা ও বুদ্ধিমত্তায় তিনি অল্প বয়সে সম্রাট জাহাঙ্গীর এর প্রিয় পাত্র হন।১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আহাজারি মনচদ্ধরী পদ লাভ করেন। এ বছরেই আচক্কার কন্যা মমতাজ মহলের সাথে শাহ জাহানের বাগদান হয়।
১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে মতো মমতাজ এর সাথে তার বিবাহ হয়।
মমতাজ ছিলেন সঙ্গে সম্রাট শাহ জাহানের ১১ জন স্ত্রী এর মধ্যে ৩য়। ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে নেপালের বিরুদ্ধে যুদ্দের সময় সম্রাট শাহ জাহানকে সেনা প্রধান করে পাঠানো হয়।

এ যদ্ধে শাহ জাহান নেপালের রাজা অমর সিং এর বিরুদ্ধে জয় লাভ করেন।
১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে অমর সিং এর সাথে মোগলদের একটি সন্ধি চুক্তি হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী অমর সিং ও ১০০ অর্শ রোহী সৈন্য মোগল দরবারে পাঠান।
১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে শাহ জাহান দাক্ষিন্তে অভিযান চালান।
তিনি মালিক অম্ভরকে পরাজিত করেন।
এই সময় মালিক অম্ভর বালাগাট অঞ্চল অ আহমদ নগর দূর্গ মোগলদের কাছে অর্পন করেন।
এ যুদ্ধ জয়ের পর সম্রাট জাহাঙ্গীর থাকে শাহ জাহান উপাধি দেন।যার অর্থ পৃথিবীর রাজা। এর কিছুদিন পর মোগল বাহিনীর অরাজগাতার সুযোগে মালিক অম্ভর বিদ্রোহ ঘোষনা করেন।যার কারনে মালিক অম্ভর এর বিরূদ্ধে শাহ জাহানকে আবার যুদ্ধে পাঠানো  হয়।
এবার ও মালিক অম্ভর পরাজিত হন।
এবারের যদ্ধে মোগল বাহিনী বিজাপূর আহমদ নগর ও গোলকুন্ডা অধিকার করেন।এ সময় মালিক অম্ভর বিমুল টাকায় নজরানা হিসাবে মোলদের সাথে সন্ধি করেন।
জাহাঙ্গীর এর মৃত্যুর সময় শাহ জাহান দাক্ষিনার্তে ছিলেন।
তাই শাহ জাহানের শশুর আচক্কা জাহাঙ্গীর এর প্রথম পুত্র খুসরু যিনি আগেই নিহিত হয়েছিলেন তার প্রথম পুত্র গাওয়ারবাছকে অস্তাহি সম্রাট হিসাবে ঘোষনা দেন।
এই সময় নুর জাহান লাহোরের শাহরিয়ারকে সম্রাট হিসাবে ঘোষনা দেন।আচক্কা দ্রুত লাহোর আক্রমন করে এবং শাহরিয়ারকে বন্ধি করেন। ১৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে শাহ জাহান আগরায় আসেন।তিনি সিংহাসনের সকল প্রতিধন্ধিদের হত্যা করেন।এই সময় গাওয়ারবাছ পারস্যে পালিয়ে যান।শেষ পর্যন্ত তিনি মোগল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। এ বছরেই বোন্ধলের নেতা জুজাস সিংহ বিদ্রোহ ঘোষনা করেন।
মাত্র কয়েকদিনে যুদ্ধের পর জুজাস সিংহ মোগল বাহিনীর কাছে আত্ন সমর্পন করেন।
এ সময় জুজাস সিংহ যুদ্ধের খতিপুরন ভাবত ১৫ লক্ষ টাজা এবং ১ হাজার সোনার মহর মোগল বাহিনীকে দেন।

এর বদলে শাহ জাহান থাকে জাগির প্রধান করেন।
১৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে উরিসায় বয়াবহ দূর্বিগ্য  দেখা দেয়। এ দূর্বিগ্যের পর পরই উরিসায় বেপক মরগ লেগে যায়।
এ সময় শাহ জাহান ৭ লক্ষ টাকা মৌকুক করে দেন এবং সরকারি বেবস্তাপনায় লঙ্গরখানা খুলা হয়।
১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট শাহ জাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৬ সেসেপ্টেম্ব এই সংবাদ রাজ্যময়ে চরিয়ে পড়ে। এ সময় আগরাছি ছিলেন যুবরাজ দারাচিকো।
শাহ জাহানের চার সন্তানের ভিতর সিংহাসন দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। শাহ জাহান সবার সম্মুখে দারাকে সিংহাসনে উত্তরাধিকার করেন।
এ সংবাদ শুনার পর তার অন্য তিন ছেলে মুরাদ আরঙ্গজেব,সুজা পৃথক পৃথক ভাবে সিংহাসন দখলের জন্য প্রস্তুতি নেন।তারা রাজধানী থেকে বাংলার শাসকতা সুজা গুজরাটের শাসকতা মুরাদ এবং দাক্ষিনার্তের শাসকতা আরঙ্গজেব এর সাথে রাজধানী থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে উভয় বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়।
দারার বাহিনী কাসিমাকা এবং জসবোন্ত সিংসের বেতর মতানৈক্যর কারনে আরঙ্গজেব যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
এরপর আরঙ্গজেব ও মুরাদের বাহিনী আগরার পথে অগ্রসর হন।১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে জুন মাসের শুরুতে উভয় বাহিনী আগরার ৮ মেইল দূরে সামুগরে উপস্থিত হন।
এ সময় দারা অধিনে প্রায় পঞ্চাশ হাজার সৈন্য ছিলো এর সাথে রাজপুত যুতেরা ও যুগ দিয়েছিলেন।
১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জুন দারার পক্ষে খুবিপ উল্লাহের বিশ্বাস গাতকতায় আরঙ্গজেব যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
এ সময় দারা পালিয়ে পাঞ্জাবে চলে যান।
এর পর আওরঙ্গজেব রাজধানীর ভিতর প্রবেশ করেন এবং শাহ জাহানকে বন্ধি করে কারাগারে পাঠান।
তিনি নিজেকে দিল্লির সম্রাট হিসাবে ঘোষনা দেন।
বন্ধি অবস্তায় শাহ জাহানকে দেখা শুনা করতেন তার বড় মেয়ে জাহানারা। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে  ২২ জানুয়ারী শাহ জাহান বন্ধি অবস্তায় মৃত্যু বরন করেন।
মৃত্যুর পর তাজমহলের ভিতরে তার স্ত্রী মমতাজ মহলের কবরের পাশে থাকে কবর দেওয়া হয়।


Post a Comment

0 Comments