ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের নিয়ম


ইসলামে বিয়ের নিয়ম কানুন|ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের নিয়ম

ইসলামে বিয়ের নিয়ম কানুন,ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের নিয়ম,ইসলামে বিয়ের অনুষ্টান, ইসলামে বিয়ের যোগ্যতা,বিবাহের মাসআলা,ইসলামিক বিয়ের নিয়ম কানুন,ইসলামে বিবাহ অনুষ্টান
ইসলামে বিয়ের নিয়ম কানুন


শরিয়তে বিবাহ


নারী-পুরুষ একে অপর থেকে উপকৃত হওয়া এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। এ সংজ্ঞা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি, বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল ভোগ নয়; বরং এর সঙ্গে আদর্শ পরিবার ও আলোকিত সমাজ গড়ার অভিপ্রায়ও জড়িত।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তাদের অভিবাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান করো, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।’ [সূরা নিসা-২৫]।

নিষিদ্ধ বিয়ে


যে সকল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিয়ে নিষিদ্ধ
রক্তসম্পর্কের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা: নয়টি, যথা: মা, বোন, মেয়ে, দাদী, নানী, খালা, ফুফু, ভাতিজী, ভাগ্নী।

দুগ্ধপানের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
কোন ছেলেসন্তান জন্মের প্রথম দুবছরের মধ্যে আপন মা ছাড়া রক্তসম্পর্কের বাইরে যদি কোন মহিলার স্তন্যদুগ্ধ পান করে থাকে তবে তাকে ঐ ছেলে সন্তানের দুধমাতা বলা হয়| বিবাহের ক্ষেত্রে আপন মায়ের মত ঐ মহিলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে| তাই একজন পুরুষের জন্য তার দুধমাতার সঙ্গে এবং দুধমাতার বোন ও মেয়ের সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ।

বিবাহের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
সৎ-মা, সৎ-দাদি, সৎ-নানী। কোন না কোন সময় সহবাস করেছে এমন স্ত্রীর কন্যা। শাশুড়ি, নানী-শাশুড়ি, দাদি-শাশুড়ি। ছেলের বউ, নাতির বউ। স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তার বোন, খালা, ফুফু, স্ত্রীর ভাইয়ের অথবা বোনের কন্যা।

ধর্মের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
একজন মুসলিম পুরুষ কোন মুশরিক (মূর্তিপূজারী) বা কাফির (অবিশ্বাসী) নারীকে বিয়ে করতে পারবে না, শুধুমাত্র কোন মুসলিম নারী এবং পাশাপাশি কোন ইহুদি বা খ্রিষ্টান নারীকেও বিয়ে করতে পারবে| অপরদিকে একজন মুসলিম নারী শুধুমাত্র একজন মুসলিম পুরুষকেই বিয়ে করতে পারবে


যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধঃ পুরুষের জন্য
মা। সৎমা। বোন। সৎবোন। দাদী, বড়দাদী এবং তাদের মাতৃসম্পকের পূর্বসূরী নারীগণ। নানী, বড়নানী এবং তাদের মাতৃসম্পর্কের পূর্বসূরীগণ। কন্যাসন্তান। নাতনী। নাতনীর কন্যাসন্তান এবং জন্মসূত্রে পরবর্তী প্রজন্মসমূহের নারীগুণ (উদাহরণঃ নাতনীর কন্যার কন্যা ও তার কন্যা ইত্যাদি)। ফুফু। খালা। সৎমেয়ে। ভাইয়ের মেয়ে। বোনের মেয়ে। দুধমা। দুধবোন। দুধমায়ের বোন। আপন পুত্রের স্ত্রী। শাশুড়ী।

সমলিঙ্গের সকল ব্যক্তি অর্থাৎ সকল পুরুষ এবং জৈবিকভাবে নারী ব্যতীত অন্য যে কোন লিঙ্গের ব্যক্তি মুর্তিপুজারী বা মুশরিক বা বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী নারী (নারীদের জন্য সকল অমুসলিম পুরুষ) আপন দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করা, (নিজ স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর অথবা তাঁর মৃত্যুর পর অপর বোনকে বিয়ে করতে পারবে। ইসলামে নারীদের জন্য বহুবিবাহ অর্থাৎ একই সময়ে একের অধিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকার অনুমতি না থাকায় বিপরীতভাবে নারীদের জন্য এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না।) নারীর জন্যেও লিঙ্গীয় বিবেচনায় বিপরীতভাবে উপরোক্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বিবাহের তাৎপর্য


বিবাহ একটি বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এর যার গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে করা নবী-রাসূলদের (আলাইহুমুস সালাম) সুন্নাত।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
‘আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি।’ (রা‘দ : রা‘দ : ৩৮)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন,
أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
‘আমি নারীকে বিবাহ করি। (তাই বিবাহ আমার সুন্নত) অতএব যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (বুখারী : ৫০৫৬; মুসলিম : ৩৪৬৯)

এ জন্যই আলিমগণ বলেছেন, সাগ্রহে বিবাহ করা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। কারণ, এর মধ্য দিয়ে অনেক মহৎ গুণের বিকাশ ঘটে এবং অবর্ণনীয় কল্যাণ প্রকাশ পায়। 
কারও কারও ক্ষেত্রে বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। যেমন : যদি কেউ বিবাহ না করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে। তখন নিজেকে পবিত্র রাখতে এবং হারাম কাজ থেকে বাঁচতে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء
‘হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়।’ 
(বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪)

বিবাহের তাৎপর্য


বিবাহ একটি বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এর যার গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে করা নবী-রাসূলদের (আলাইহুমুস সালাম) সুন্নাত।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
‘আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি।’ (রা‘দ : রা‘দ : ৩৮)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন,
أَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
‘আমি নারীকে বিবাহ করি। (তাই বিবাহ আমার সুন্নত) অতএব যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (বুখারী : ৫০৫৬; মুসলিম : ৩৪৬৯)

এ জন্যই আলিমগণ বলেছেন, সাগ্রহে বিবাহ করা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। কারণ, এর মধ্য দিয়ে অনেক মহৎ গুণের বিকাশ ঘটে এবং অবর্ণনীয় কল্যাণ প্রকাশ পায়। 
কারও কারও ক্ষেত্রে বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। যেমন : যদি কেউ বিবাহ না করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে। তখন নিজেকে পবিত্র রাখতে এবং হারাম কাজ থেকে বাঁচতে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء
‘হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়।’ 
(বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪)

পাত্রী দেখা


জাবের ইবন আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَقَدَرَ عَلَى أَنْ يَرَى مِنْهَا مَا يُعْجِبُهُ وَيَدْعُوهُ إِلَيْهَا فَلْيَفْعَلْ. قَالَ جَابِرٌ : فَلَقَدْ خَطَبْتُ امْرَأَةً مِنْ بَنِى سَلِمَةَ فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ فِى أُصُولِ النَّخْلِ حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا بَعْضَ مَا أَعْجَبَنِى فَتَزَوَّجْتُهَا
‘তোমাদের কেউ যখন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, অতপর তার পক্ষে যদি ওই নারীর এতটুকু সৌন্দর্য দেখা সম্ভব হয়, যা তাকে মুগ্ধ করে এবং মেয়েটিকে (বিবাহ করতে) উদ্বুদ্ধ করে, সে যেন তা দেখে নেয়।’ (বাইহাকী, সুনান কুবরা : ১৩৮৬৯)

অপর এক হাদীসে রয়েছে, আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا ». قَالَ لاَ. قَالَ « فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِى أَعْيُنِ الأَنْصَارِ شَيْئًا »
‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জানাল যে সে একজন আনসারী মেয়েকে বিয়ে করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি তাকে দেখেছো?’ সে বললো, না। তিনি বললেন, যাও, তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কারণ আনসারীদের চোখে (সমস্যা) কিছু একটা রয়েছে’।’ (মুসলিম : ৩৫৫০)

ইমাম নববী রহ. বলেন, ‘এ হাদীস থেকে জানা যায়, যাকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক তাকে দেখে নেয়া মুস্তাহাব।’ (নববী, শারহু মুসলিম : ৯/১৭৯)

বিয়ের পূর্ব যোগাযোগ


ছবি বা ফটো বিনিময়
নারী-পুরুষ কারো জন্য কোনোভাবে কোনো ছবি বা ফটো বিনিময় বৈধ নয়। কারণ,
প্রথমত. এ ছবি অন্যরাও দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, যাদের জন্য তা দেখার অনুমতি নেই।
দ্বিতীয়ত. ছবি কখনো পূর্ণ সত্য তুলে ধরে না। প্রায়শই এমন দেখা যায়, কাউকে ছবিতে দেখে বাস্তবে দেখলে মনে হয় তিনি একেবারে ভিন্ন কেউ।
তৃতীয়ত. কখনো এমন হতে পারে যে প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়া হয় বা প্রত্যাখ্যাত হয় অথচ ছবি সেখানে রয়েই যায়। ছবিটিকে তারা যাচ্ছে তাই করতে পারে।

বিবাহের আগে প্রস্তাবদানকারীর সঙ্গে বাইরে বের হওয়া বা নির্জনে অবস্থান করা
বিয়ের আগে প্রস্তাব দেয়া নারীর সঙ্গে নির্জন অবস্থান বা তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বৈধ নয়। কেননা, এখনো সে বেগানা নারীই রয়েছে। পরিতাপের বিষয়, আজ অনেক মুসলমানই তার মেয়েকে লাগামহীন ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে তারা প্রস্তাবদানকারী পুরুষের সঙ্গে ঘরের বাইরে যায়! উপরন্তু তার সঙ্গে সফরও করে! ভাবখানা এমন যে মেয়েটি যেন তার স্ত্রী হয়ে গেছে।

বর-কনের পারস্পরিক যোগাযোগ করা
প্রস্তাব দেয়া নারীর সঙ্গে ফোন বা মোবাইলে এবং চিঠি ও মেইলের মাধ্যমে শুধু বিবাহের চুক্তি ও শর্তাদি বোঝাপড়ার জন্য যোগাযোগের অনুমতি রয়েছে। তবে এ যোগাযোগ হতে হবে ভাব ও আবেগবিবর্জিত ভাষায়, যা একজন বেগানা নারী-পুরুষের জন্য বৈধ ভাবা হয় না। আর বলাবাহুল্য, বিবাহের প্রস্তাব প্রেরণকারী কনের কেউ নন, যাবৎ না তারা বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। উল্লেখ্য, এ যোগাযোগ উভয়ের পিতার সম্মতিতে হওয়া শ্রেয়।

এ্যাংগেজমেন্ট


ইদানীং পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণে বিয়েতে এ্যাংগেজমেন্ট করার রেওয়াজ ব্যাপকতা পেয়েছে। এই আংটি পরানোতে যদি এমন ধরে নেওয়া হয় যে এর মাধ্যমে বিবাহের কথা পাকাপোক্ত হয়ে গেল তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কেননা, মুসলিম সমাজ বা শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। আরও নিন্দনীয় ব্যাপার হলো, এ আংটি প্রস্তাবদানকারী পুরুষ নিজ হাতে কনেকে পরিয়ে দেয়। কারণ, এ পুরুষ এখনো তার জন্য বেগানা। এখনো সে মেয়েটির স্বামী হয়নি। কেননা, কেবল বিবাহ চুক্তি সম্পাদিত হবার পরেই তারা স্বামী-স্ত্রী বলে গণ্য হবেন।

দেনমোহর


মুসলিম বিয়েতে দেনমোহর হচ্ছে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার। দেনমোহর সাধারণত বর ও কনের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। দেনমোহর হিসেবে যেকোনো পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই স্বামী ন্যূনতম ১০ দিরহাম বা সমপরিমাণ অর্থ অপেক্ষা কম নির্ধারণ করতে পারবেন না। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা না হলে বিয়ের পরও তা নির্ধারণ করা যায়। তবে সে ক্ষেত্রে ন্যায্য দেনমোহর নির্ধারণের সময় সামাজিক মর্যাদা ও বাবার পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্যের—যেমন, স্ত্রীর আপন বোন, ফুপু ও ভাইয়ের মেয়ের—দেনমোহরের পরিমাণ বিবেচনা করাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তা ছাড়া প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে দেনমোহর নির্ধারণ করা যায় কিংবা স্বামী কর্তৃক যেকোনো সময় দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়। তবে দেনমোহর প্রদান ছাড়া বিয়ে অবৈধ হয়ে যায় না। শর্ত হচ্ছে, বিয়ের পর স্ত্রীকে অবশ্যই উপযুক্ত দেনমোহর প্রদান করতে হবে। অনেক সময় দেনমোহর নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। অনেক ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের সময় বলা হয়, স্ত্রী নিজ ইচ্ছা থেকে, নিজে উদ্যোগী হয়ে তালাক দিচ্ছেন। এতে যুক্তি তুলে ধরা হয় যে স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে না। এটি ভুল ধারণা। স্বামী বা স্ত্রী যে-ই তালাক দিন না কেন, দেনমোহরের টাকা অবশ্যই প্রদান করতে হবে। দেনমোহরের টাকা মাফ করা যায়, তবে সে জন্য কিছু শর্ত আছে। স্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন থাকতে হবে এবং কোনো প্রকার প্ররোচিত না হয়ে মাফ করতে হবে। কারও দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না।

দেনমোহরের প্রকারভেদ
দেনমোহর দুই প্রকার। যেমন—
১. তাৎক্ষণিক দেনমোহর
তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রীর চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর না পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে বসবাস (দাম্পত্য মিলন) করতে অস্বীকার করতে পারেন।

২. বিলম্বিত দেনমোহর
যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করতে হয়, তাকেই বিলম্বিত দেনমোহর বলে। এ ছাড়া স্বামী সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্ত্রী বা স্ত্রীদের দাবিক্রমে বিলম্বিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে।

দেনমোহরের একটা অংশ থাকে যা তাৎক্ষনিক, অর্থাৎ স্ত্রী দাবী করা মাত্র দিয়ে দিতে হয় । সাধারণত কাবিননামার নির্দিষ্ট কলামে তাৎক্ষনিক দেনমোহরের অংশ উল্লেখ থাকে । অংশ দেওয়া হয়ে গেলে উসুল বলা হয় । মনে করি মোট দেনমোহর চার লক্ষ টাকা । পঞ্চাশ হাজার টাকা তাৎক্ষনিক দেনমোহর হিসেবে ধার্য হলো । এই ধার্যকৃত টাকা দিয়ে দিলে লেখা থাকবে উসুল পঞ্চাশ হাজার টাকা । সাধারণত অলঙ্কার বা অন্যকোন মূল্যবান সামগ্রী প্রদান সাপেক্ষে উসুল দেওয়া হয় ।

রেজিস্ট্রি


মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রি
বিয়ে রেজিস্ট্রি হচ্ছে বিয়ের লিখিত দলিল। বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য আমাদের দেশে একটা আইন আছে। এটাই বিয়ে রেজিস্ট্রিকরণ আইন। অর্থাত্‍ বিবাহ সম্পর্কিত অত্যাবশ্যক তথ্যাবলী সরকারী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করাই হচ্ছে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন। বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের কপি হচ্ছে বিবাহের প্রমান পত্র। এই আইনটি ১৯৭৪ সালে কার্যকরী হয়। উল্লেখ্য যে হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রি করণের কোন বিধান নেই।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশন কেন প্রয়োজন?
* কেউ বিয়ের সত্যতা অস্বীকার করতে পারে না;
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামী পুনরায় বিবাহ করলে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন;
স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী ভরনপোষণ আদায় করতে পারেন;
স্ত্রী নিকাহ্ নামায় উল্লেখিত দেনমোহর আদায় করতে পারেন; যে ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্দিষ্ট করা নাই, সেক্ষেত্রে স্ত্রী ন্যায় সংগত পরিমাণ দেনমোহর আদায় করতে পারেন;
স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু ঘটলে দুইজনের মধ্যে যিনি বেঁচে থাকবেন, তিনি মৃতের সম্পত্তি থেকে বৈধ অংশ আদায় করতে পারবেন।
উদাহরণ
আয়েশা আর গফুরের ধুমধামের সাথে বিয়ে হলো। কিন্তু নানা উত্‍সবের আড়ালে রেজিস্ট্রেশনের কথাটি সবাই বেমালুম ভুলে যায়। বিয়ের কিছু দিন পর আয়েশা এবং গফুরের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং গফুর আয়েশাকে প্রাপ্য দেনমোহর ও ভরণপোষণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিয়ে রেজিষ্ট্রি করা থাকলে আয়েশা সহজেই আদালতে গিয়ে দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় করতে পারত, কিন্তু এ অবস্থায় দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় করা খুব কঠিন।

বিবাহ রেজিস্ট্রি ফি
রেজিষ্ট্রি ফি দেনমোহর টাকার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন ফি-প্রতি হাজারে দশ টাকা, সর্বনিম্ন ৫০ টাকা, সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকা।
(কিন্তু সরকার সময়ে সময়ে রেজিস্ট্রেশন ফি পরিবর্তন করে থাকেন)। এছাড়া প্রতিটি বিবাহের রেজিস্ট্রেশন বাবদ নিকাহ রেজিস্টার ২৫ টাকা কমিশন পাবেন এবং তিনি বিবাহের অনুষ্ঠানে গিয়ে রেজিস্ট্রি করালে, যাতায়াত ভাতা বাবদ প্রতি মাইলে ১.০০ (এক) টাকা বকরে পাবেন। বর পক্ষ সাধারণত রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান করে থাকেন। রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া হলে নিকাহ্ রেজিস্টার একটি প্রাপ্তি রশিদ দিবেন। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজ স্বামী ও স্ত্রী দুজনের কাছেই রাখতে হবে। অন্যথায় স্ত্রী সমস্যায় পরলে আদালতের কাছে সাহায্য চাইতে পারবেন না।

বিয়ের পরে


নতুন বউয়ের করণীয়

মানসিক প্রস্তুতি
শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার আগেই মাথায় রাখতে হবে যে সেখানকার পরিবেশ তাঁর এত দিনের চেনা পরিবারের মতো না। যেমন—সেই পরিবারের আচার-আচরণ, খাবারদাবার, জীবনযাপনের ধরন, রুচি ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে আগেই যদি তিনি শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ নিয়ে স্বামী বা অন্য কারও কাছ থেকে ধারণা নিয়ে রাখেন, তবে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে।

সময় নিন
শ্বশুরবাড়ির সব বিষয়ে জড়িত হওয়ার আগে সময় নিন। পরিবারের সবার মনমানসিকতা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার কাছে তাঁরা কী আশা করেন, সেটা জানার চেষ্টা করুন। একই সঙ্গে আপনাকেও তাঁদের বুঝতে দিন। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগার বিষয়গুলো গল্পচ্ছলে জানান।

যোগাযোগ স্থাপন
শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলুন। নিজের পরিবারের সঙ্গে যেভাবে মিশতেন, সেভাবে মেশার চেষ্টা করুন।

শ্বশুরবাড়ির ত্রুটি-বিচ্যুতি
শ্বশুরবাড়ির কোনো কিছু ভালো না লাগলে সে বিষয় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখানোই ভালো। মনে রাখবেন, সবকিছুরই ভালো-মন্দ থাকে। তাই খারাপটাকে উপেক্ষা করে যদি ভালো দিকগুলোর প্রতি মনোযোগী হন, তবে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। সুতরাং, তাঁদের ভালো দিকগুলো গ্রহণ করুন। যে বিষয়গুলো আপনার ভালো লেগেছে, তার প্রশংসা করুন। সামান্য প্রশংসা আপনার জন্য অনেক কিছু সহজ করবে।

অন্যের সমালোচনায় যোগ না দেওয়া
শ্বশুরবাড়ির কেউ অন্য কারও সমালোচনা করলে আপনি তাতে যোগ দেবেন না। একজনের কথা অন্যজনকে বলা থেকে বিরত থাকুন।

রূঢ় আচরণে প্রতিক্রিয়া
কারও আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকলে মনের মধ্যে পুষে রাখবেন না। তবে সেটা এমনভাবে প্রকাশ করুন, যাতে সেই ব্যক্তির মনে আঘাত না লাগে বা লজ্জা না পায়; কিন্তু বুঝতে পারেন যে আপনি কষ্ট পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে রূঢ় হওয়া বা অতিমাত্রায় নমনীয় থাকা—কোনোটাই ঠিক নয়।

সমালোচনার ক্ষেত্রে
কেউ আপনার সমালোচনা করলে তর্ক করবেন না। মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনুন। সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলে ভুল স্বীকার করুন। গ্রহণযোগ্য না হলে উপেক্ষা করুন।

নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সময় নিন
মনে রাখবেন, শুধু শ্বশুরবাড়ি নয়, যেকোনো পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবে। এ সময়টুকুতে আপনি আপনার নিজস্বতা ঠিক রেখেই যদি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন, তবে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই আপনার অনুকূলে চলে আসবে। তাই এই প্রাথমিক মানিয়ে নেওয়ার সময়টাতে আপনার ধৈর্য, বিবেচনা আর সহনশীলতাই নির্ধারণ করবে শ্বশুরবাড়ির অচেনা পরিবেশটা কতটুকু আপনার নিজের হয়ে উঠল।

স্বামীর ভূমিকা

স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নাজুক ও টানাপোড়েনের জায়গাটিতে থাকেন স্বামী। তবে তাঁর বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা এই জটিল বিষয়টিকে অনেক সহজ করতে পারে। মনে রাখুন, নিজের পরিবার ছেড়ে আসার কষ্ট এবং সেই সঙ্গে নতুন পরিবেশকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা—এই দুই-ই স্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন। এ সময়ে স্ত্রীর জন্য স্বামীর আন্তরিক চেষ্টা এবং ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই।

প্রথমেই স্ত্রীর প্রতি আপনার সহযোগী মনোভাব ব্যক্ত করুন। তাঁর যেকোনো সমস্যায় আপনি তাঁর পাশে আছেন, সে বিষয়ে আশ্বস্ত করুন।

বাড়ির পরিবেশ, নিয়ম-রীতি এবং সবার সম্পর্কে স্ত্রীকে প্রাথমিক ধারণা দিন। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে তাঁর কী রকম দায়িত্ব হবে, সেটা স্পষ্ট করে বলুন।

স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সমান মনোযোগ দিন। কারও সামনে কাউকে হেয় করবেন না। স্ত্রী সম্পর্কে পরিবারের সামনে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।

নতুন পরিবেশে স্ত্রী কোনো অসুবিধাবোধ করলে সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনুন। তাঁর সমস্যা আপনি বুঝতে পেরেছেন, সেটা প্রকাশ করুন এবং মানিয়ে নিতে সাহায্য করুন।

স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটান, গল্প করুন, বাইরে বেড়ান। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সমালোচনা উপেক্ষা করুন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে দিন। তাঁদের প্রতি আপনার ভালোবাসা যে আগের মতোই আছে, সেটা নানাভাবে প্রকাশ করুন।

শ্বশুরবাড়ি মানে স্ত্রীর পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা দেখান। তাঁদের খোঁজখবর নিন। তাঁদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান। স্ত্রীর কাছে তাঁদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন।

নতুন পরিবেশে স্ত্রীর মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে প্রশংসা করুন। অন্যের সামনে তাঁর সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।

গল্পচ্ছলে আপনার কাছে আপনার পরিবারের গুরুত্বের কথা স্ত্রীকে জানান।

মা, ভাবি বা বোনের গুণের সঙ্গে স্ত্রীকে তুলনা করবেন না।

কোনো ভুলত্রুটি করলে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধকে সম্মান করে বুঝিয়ে বলুন।

বরকে অভ্যর্থনা


ُﻪَّﻠﻟﺍ َﻙَﺭﺎَﺑ َﻚَﻟ َﻙَﺭﺎَﺑَﻭ َﻊَﻤَﺟَﻭ ﺎَﻤُﻜْﻴَﻠَﻋ ﺎَﻤُﻜَﻨْﻴَﺑ ﻲِﻓ .ٍﺮْﻴَﺧ /ﺢﻴﺤﺻ ﺚﻳﺪﺣ) ﺩﻭﺍﺩﻮﺑﺍ ﻩﺍﻭﺭ ﻦﻋ ﻰﺑﺍ ﺓﺮﻳﺮﻫ ﻰﺿﺭ ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻨﻋ )

উচ্চারণ: বা’রাকাল্লাহু লাকা ওয়াবারাকা আলাইকুমা ওয়াজামিআ’ বায়নাকুমা ফী খায়ের।

অর্থ: আল্লাহ তোমাকে বরকত সমৃদ্ধি করুক, আর তোমাদের (স্বামী-স্ত্রী) মধ্যে বরকত নাযিল হোক, তিনি কল্যাণের সাথে তোমাদের বসবাস নসীব করুক।

বাসর রাতের দোয়া


স্ত্রীকে পিছনে রেখে দুই রাকাত নাফল সালাত আদায় করিবে, অতঃপর নিম্নের দোয়া পাঠ করিবে -

1. َّﻢُﻬَّﻠﻟﺍ ﻲِﻓ ﻲِﻟ ْﻙِﺭﺎَﺑ ,ﻲِﻠْﻫَﺃ ْﻙِﺭﺎَﺑَﻭ ,َّﻲِﻓ ْﻢُﻬَﻟ ﻲِﻨْﻗُﺯْﺭﺍَﻭ ْﻢُﻬْﻗُﺯْﺭﺍَﻭ ْﻢُﻬْﻨِﻣ ,ْﻰِّﻨِﻣ ْﻊَﻤْﺟﺍ َّﻢُﻬَّﻠﻟﺍ ﺎَﻨَﻨْﻴَﺑ ٍﺮْﻴَﺨِﺑ َﺖْﻌَﻤَﺟﺎَﻣ ْﻕِّﺮَﻓَﻭ ﺎَﻨَﻨْﻴَﺑ َﺖْﻗَّﺮَﻓ ﺍَﺫﺇ ﻲِﻓ .ٍﺮْﻴَﺧ ﺚﻳﺪﺣ) ﻒﻴﻌﺿ ﻩﺍﻭﺭ / ﻲﻧﺍﺮﺒﻄﻟﺍ ﻲﻓ ﻪﻤﺠﻌﻣ ﺮﻴﺒﻜﻟﺍ ﻦﻋ ﺪﺒﻋ ﻦﺑ ﻪﻠﻟﺍ ﺩﻮﻌﺴﻣ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﺿﺭ ﻪﻨﻋ)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লী ফী আহলী, ওয়াবারিক লাহুম ফিইয়্যা, ওয়ারযুকুনী মিনহুম ওয়ারযুকহুম মিন্নী। আল্লাহুম্মাজ’মা বায়নানা মা~জামা’তা বিখায়রিন ওয়াফাররিক বায়নানা ইযা ফাররাকতা ফী খায়ের।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার পরিবারের মধ্যে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং তাহাদের জন্য আমার মধ্যে বরকত দান করুন, এবং তাদেরকে আমার ভার বহনের ও আমাকে তাদের ভার বহনের তাওফীক দিন। হে আল্লাহ, আমাদের একত্রিত রাখুন যতদিন একত্রিতের মধ্যে মঙ্গল থাকে, আর আমাদেরকে পৃথক করিয়া দিন যদি উহাতে মঙ্গল থাকে।

অতঃপর স্ত্রী’র কপালে হাত রেখে নিম্নের দোয়া পাঠ করা-

2. َّﻢُﻬَّﻠﻟﺍ ﻰِّﻧِﺇ َﻚُﻟَﺄْﺳﺃ ﺎَﻫَﺮْﻴَﺧ ﺎَﻣ َﺮْﻴَﺧَﻭ ﺎَﻬَﺘْﻠَﺒَﺟ ,ﻪْﻴَﻠَﻋ ُﺫْﻮُﻋﺃﻭ َﻦِﻣ َﻚِﺑ ﺎَﻫِّﺮَﺷ ﺎَﻣ ِّﺮَﺷَﻭ ﺎَﻬَﺘْﻠَﺒَﺟ .ﻪْﻴَﻠَﻋ ﺚﻳﺪﺣ) ﻩﺍﻭﺭ /ﻦﺴﺣ ﺩﻭﺍﺩﻮﺑﺍ ﻩﺮﻴﻏ ﻭ ﻭِﺮْﻤَﻋ ﻦﻋ ِﻦْﺑ ْﻦَﻋ ٍﺐْﻴَﻌُﺷ ْﻦَﻋ ِﻪﻴِﺑَﺃ ِﻩِّﺪَﺟ ﻲﺿﺭ ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻨﻋ )

উচ্চারণ: আল্লা- হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা ম ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়াশাররি মা’ জাবালতাহা আলাইহি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট উহার (স্ত্রী) কল্যাণের প্রার্থনা করিতেছি এবং প্রার্থনা জানাই তার সেই কল্যাণময় স্বভাবের যার উপর আপনি থাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। আর আমি আপনার আশ্রয় চাইতেছি তার অনিষ্ট হইতে এবং তার সেই অকল্যাণময় স্বভাবের অনিষ্ট হইতে যার উপর আপনি থাকে সৃষ্টি করিয়াছেন।


মিলনের পূর্বে


স্ত্রীর সাথে মিলনের সময় নিম্নের দোয়া পাঠ করা-

1. ِﻢْﺴِﺑ ,ِﻪَّﻠﻟَﺍ َّﻢُﻬَّﻠﻟﺍ ِﺐِّﻨَﺟَﻭ َﻥﺎَﻄْﻴَّﺸﻟَﺍ ﺎَﻨْﺒِّﻨَﺟ َﻥﺎَﻄْﻴَّﺸﻟﺍ .ﺎَﻨَﺘْﻗَﺯَﺭﺎَﻣ ﻪﻧﺈﻓ" ﺭﺪﻘﻳ ﻥﺇ ﺎﻤﻬﻨﻴﺑ ٌﺪﻟﻭ ﻲﻓ ﻢﻟ ﻚﻟﺫ ﻥﺎﻄﻴﺸﻟﺍ ﻩﺮﻀﻳ "ًﺍﺪﺑﺃ ﺚﻳﺪﺣ) ﻩﺍﻭﺭ /ﺢﻴﺤﺻ ﻦﻋ ﻯﺭﺎﺨﺒﻟﺍ ﻦﺑﺍ ﺱﺎﺒﻋ ﻰﺿﺭ ﻪﻠﻟﺍ ﺎﻤﻬﻨﻋ )

উচ্চারণ: বিছমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতান, অজান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা।

অর্থ: আল্লাহর নামে আমরা মিলন করিতেছি, হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে শয়তান হইতে দূরে রাখুন আর আপনি আমাদিগকে যে সন্তান দান করিবেন তাহাদিগকেও শয়তান থেকে দূরে রাখুন।

ফযীলাত: যখন কেহ নিজ স্ত্রীর নিকট আসে এবং এই দোয়া পড়ে, অতঃপর ঐ সময়ের সহবাসে যদি তাহাদের সন্তান পয়দা হয়, তবে শয়তান কখনও তাহার ক্ষতি করিতে পারিবে না। অর্থাৎ শয়তান ঐ বাচ্চাকে গোমরাহ করার ব্যাপারে কখনও কামিয়াব হইতে পারিবে না।

প্রয়োজনীয় হাদিস



বিবাহ রাসূল (স:) এর সুন্নাহ। এই সুন্নাহ কিভাবে পালন করতে রাসূল (স:) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আপনাদের জন্য এমন কিছু সুন্নাহ একত্র করেছি যা থেকে আপনারা উপকৃত হবেন।

বিবাহের কতিপয় সুন্নত সমূহঃ
১. মাসনূন বিবাহ সাদা সিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি গান বাদ্য, ভিডিও অডিও মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থের অধিক মহরানার শর্ত থাকবেনা। (তাবারানী আউসাত, হাদিস নং- ৩৬১২)

২. সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পূর্বে পয়গাম পাঠানো। কোন বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত তা সুন্নতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য। (বুখারী হাদিস নং-৫০৯০, ইমদাদুল ফাতাওয়া-৪: ২০০)

৩. শাউয়াল মাসে এবং জুমুয়ার দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, সকল মাসের যে কোন দিন বিবাহ করা যায়িজ আছে। (মুসলিম ১৪২৩/ বায়হাকী ১৪৬৯৯)

৪. বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর বন্টন করা। (বুখারী/৫১৪৭)

৫. সামর্থানুযায়ী মোহর ধার্য করা। (আবু দাউদ/২১০৬)

৬. বাসর রাতের পর স্বীয় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু- বান্ধব, শুভাকাংখী এবং গরীব মিসকীনদের তাউফীক অনুযায়ী ওলীমা খাওয়ানোর আয়োজন করা। (মুসলিম/১৪২৭)

৭. কোন পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম। (আহসানুল ফাতাওয়া ৫/১৩)

৮. কনের ইযন এর জন্য স্বাক্ষীর কোন প্রয়োজন নাই। সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরুম বিবাহের এবং উকীল হওয়ার অনুমতি নিবে। (মুসলিম/১৪২১)

৯. শর্ত আরোপ করে বর যাত্রীর নামে বরের সাথে অধিক সংখ্যাক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়ীতে মেহমান হয়ে কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘন্য কু-প্রথা, যা সম্পূর্ন রুপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। (মুসনাদে আহমাদ/২০৭২২, বুখারী/২৬৯৭)

১০. ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়। বরং সামর্থানুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওলীমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়, দ্বীনদার ও গরীব গরীব-মিসকিনদের দাওয়াত দেওয়া হয়না, সে ওলীমাকে হাদিসে নিকৃষ্টতম ওলীমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ওলীমা আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত (আবু দাউদ /৩৭৫৪)


Tag:-ইসলামে বিয়ের নিয়ম কানুন,ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের নিয়ম,ইসলামে বিয়ের অনুষ্টান, ইসলামে বিয়ের যোগ্যতা,বিবাহের মাসআলা,ইসলামিক বিয়ের নিয়ম কানুন,ইসলামে বিবাহ অনুষ্টান

Post a Comment

0 Comments